Tuesday, December 16, 2014

Basona - বাসনা


মধূ জ্যৈষ্ঠের ষষ্ঠী তিথীতে কৈশর বিকেলে
একটি পদ্মদিঘীর পাড়ে

কালো ভ্রমর তার সুরের ছন্দে উদাসী ফুলের গায়ে
মৃদু শিহরণ আনে, প্রতি ক্ষনে ক্ষনে হালকা ছোঁয়া পায়ে
অনুরাধা তার কলস রেখে পদ্মদিঘীর জলে
বক্ষ ভাসিয়ে-বক্ষ ডুবিয়ে আঁচল ছড়িয়ে-
খেলে যে খেলা, চৈত্র সহন ছলে

মায়াবী নেত্র ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অধর কাঁপিয়ে ভয়ে
পদ্ম তোলে আপন মনে জলেতে ঢেউ দিয়ে
দেখেছে কি কেউ, তার আপন ছন্দ কল্পলোকে এসে
গেঁথেছে কি মন, তার হৃদয়ে, মিলন মোহনায় ভেসে

অবুঝ হৃদয় যে তার, কোন অচেনা সুরের তানে
মধূ মাসের মধূর বসন্তে, চেয়ে থাকে পথ পানে
আসবে কি তার প্রাণের ভ্রমর, তনু শোভিত বসন্ত মিষ্ট ফুলে
প্রেম নিবেদন করবে কি গ্রহন, হিয়া বাতায়ন খুলে

আশায়-আশায়, আশার বসতি অদূরের পানে চেয়ে
আঁখি দুটি তার অশ্রজলে ঝরে যে কপাল বেয়ে
যৌবন যে তার পরিপূর্ণ, কোমরে ভরা কলস
তৃষ্ণার্ত ঐ হিয়া খানি তার করতে চাই যে আপোষ

হৃদয় সাগর তার বেদনায় ভরে, দিঘীর জলে নেমে
জল নিয়ে অনু একা ফেরে নীড়ে বিধি যে তার বামে

ব্যাথার বাসনা-কামনার আগুন, নীরব নিশীত রাতে
ইশারায় ডাকে আঁড়ালে থেকে, হয়তো কষ্ট দিতে
কিশোরী হিয়া চাপা বেদনায় তবু স্বপ্ন দেখে ফিরে
সূর্যকুমার প্রভাত হয়ে আসবে শূন্য আঁধার ঘরে

অনাহারি হয়ে বসন্ত কুঞ্জে, অনুরাধার কুহূ কোকিলার ডাক
প্রবাল জোঁয়ার হয়ে ছুটে এসো প্রিয়-
ভাঙতে নদীর বাঁক







Tuesday, October 28, 2014

Anuvuti -অনুভূতি



আজ জীবনের প্রথম কোন ভুল
মহা ভুল
হারিয়েছি সুখের কিনার
হারিয়ে অনুকূল
বৈরী বাতাস ছেঁড়া পাল ছিঁড়ে
উজানে ভাসায় তরী
নয়ন সাগরের অকূল স্রোতে
সাঁতরে একা ফিরি
পল্লবী তার ফুলের বিছানায় ফুল বিছায়ে
কামনা নিদ্রা জাগে
তৃষ্ণার্ত এই হিয়া খানি কেন
কাঁদে বিরহ-রাগে
প্রেম কি তবে অলিক বস্তু
ধূ-ধূ মরীচিকা
কিশোর হৃদয়ে সবুজ বয়সের
অবুঝ কান্না মাখা
আনন্দঘন সন্ধিঃক্ষনে একটু হেসে, একটু কেঁদে
একটু চাওয়া পাওয়া
প্রেম কি তবে শীতল বসন্তে
দূরের যাত্রী হওয়া
পল্লবী আজ সুখেই আছে
কোন নতূন আশ্রয় মাঝে
বিষের বাঁশি বিষাদ হয়ে
হৃদয়ে কেন বাজে
আসব না ফিরে কাঁজল বিলে
হারানো মুক্তার খোঁজে
যার হারিয়েছে হৃদয়ের ধন
সেই তার বেদনা বোঝে




Wednesday, October 22, 2014

Kamonar Agun-কামনার আগুন



রাত্রি গভীর নক্ষত্র শোভিত হেমন্তের নিস্তব্ধ মধ্যরাত।
শীতল লোকালয়ের পাশে কুল কুল ছন্দে প্রবাহিত নদী
যৌবন পিয়াসে মন উদাসে ছুটেছে নিরবধী।

ধন্যি ঘরের অষ্টাদশী বিধবা বাসন্তি নিত্য আসে এ ঘাটে।
অর্ধ জোঁয়ারে পূর্ণ যৌবনা খেলা করে চুপিসারে
শীতের মাঝে কোকিল ডাকে তবু ফাগুন ডাকে না তারে।

পূর্ণিমা চাঁদের শুভ্র জোঁছনা বাসন্তির কোমল অধর ছুঁয়ে
আড়মোড়া দিয়ে জেগে ওঠে তবু কামনা যায় নুয়ে।
কিসের যাতনা মধ্যরাতে ঘর হতে বাইরে আনে
চৈত্র কি তার উষ্ণ সহনে নামে কি জলের গহীনে।

কোমরে তার পূর্ণ কলস তবু তৃষ্ণা নয়ন মাঝে
কলঙ্ক ভয়ে জোঁয়ারে ডোবে নিত্য সকাল-সাঁঝে
জোঁড়া পাঁয়রার মধুর মিলন, কষ্ট হোক সংসারেÑ
আলো-আঁধারে যাচিত ক্ষনে স্বপ্ন দেখে ফিরে।

বাসন্তি কেন একা কেঁদে যাবে তার বয়স বসন্ত কালে
স্বপ্ন নৌকার লাল শাড়ির পাল তার ছিঁড়বে কেন তিলে।
বিয়ে কি তার স্বাধীনতা হরণ যাতনার মায়াজাল
কামনার আগুনে আঁচল মুখে গোপনে কাঁদিবেÑ
অ-প্রাপ্তির চিরকাল ॥

Sunday, September 14, 2014

Beche Achi -বেঁচে আছি


কেঁদে কেঁদে আঁখি ফিরে এই ভেঁজা আঁচল
হয়তো একদিন হেমন্তের রূপালি কিরনে শুকিয়ে যাবে
চৈতি রোদে গলিত হবে বুকের চাপা ব্যাথা গুলো-
যদিও জানি তুমি আর ফিরবে না
তবুও এই পথ চাওয়া তবুও এই স্বপ্ন দেখা
তবুও হৃদয়ে জাগে বাসনা

অনন্তের পথে নিরন্তর পাখা মেলে উড়ে, হয়তো থেমে
যাবে কোন পাখিসারা নিশি জেগে আলোর পশর
সাঁজিয়ে হয়তো নিভে যাবে কোন বাতি
যদিও এই মনের আশ তোমাতে হবে না প্রেম বাস-
তবুও একা থাকা তবুও ব্যাথা পাওয়া
তবুও বেদনার পরিহাস

শীতের উষ্ণ জড়তায় শীতল বারি শিহরণ দেয় মনে
কত পাখি আসে কত পাখি ভাসে এই নয়ন সায়র জলে
ধূসর আঁধারের পথের ধারে চেয়ে দেখি কারো কালো
ছায়া-
যদিও জানি মায়াবী তুমি তোমাতে হবে না দরশ্ন
তবুও বুকে স্মৃতি রাখা তবুও মুখ হাসি মাখা
তবুও তোমার জন্য বেঁচে থাকা



Saturday, September 13, 2014

Nirjon Prohora -নির্জন প্রহরে



নীল সে আকাশ গোধূলীতে ছায়া ফেলে উড়ে চলে বলাকা
ঘন মেঘ গুমরে কেঁদে ওঠে অঝরে ঝরায় শ্রাবন, বিরহী সে বিহঙ্গ
ডেকে ওঠে থাকি থাকি-
তুমি হীনা নিঃস্ব আমি বড় একাকি

উত্তাল সমুদ্রের বুকে আবছা কুয়াশা তীরে জাহাজ করে না নোঙর
ঘুরে ফিরে মন নিজের ঘরে, ধরা দিতে চায় কেন পারি না?
কেন হয় না দুজনেও কথা-
অনুভব কর কি? হিয়ায় কত ব্যাথা

ধরনীতে যদি নিজের ভীষণ বেদনার রূপটি দেখতে চাও
তবে কাঁদ তুমি-কাঁদ একাকি নির্জনে-সস্মুখে পত্রহীন বৃক্ষ
বিষন্ন চৈত্রে রৌদ্রের তলে-
বুঝবে কষ্ট-বিরহ-বেদনা-যন্ত্রর্না কারে বলে

মাঝে মাঝে নিশীতের আঁধারে বেদনার বালুচরে আমার
স্বপ্ন দেখা
খুঁজে ফিরি তোমায় তোমার হৃদয়ের প্রান্ত
শুধু আমি নির্জন প্রহরে তোমার প্রতিক্ষায়-
এক প্রতিক্ষীত বিহঙ্গ







Monday, September 8, 2014

Tomay Poriba Mone-তোমায় পড়িবে মনে


হে প্রেয়সী
এই বিষাদ ঘন ক্লান্ত দিনের শেষ বসন্ত বিকেলে
যদি অতীতের স্মৃতি কাঁদায় সারাটি রাত
একাকি নির্জনে
তবুও তোমায় পড়িবে মনে

কভূ যদি জীবনে নেমে আসে, ধ্বংসের নির্মম
কালবৈশাখী ঝড়মন আকাশে যদি জমে কালো মেঘ
যদি অঝোর বৃষ্টি ঝরে
রজনীগন্ধা বনে
তবুও তোমায় পড়িবে মনে

যদি তোমায় ঘিরে আমার প্রতিটি স্বপ্নের বাঁ
একে একে পরিণত হয় নিরাশায়ব্যাথার পাহাড়
আঁকড়ে ধরে যদি মন বোবা ভাষায় কাঁদে
জীবনের প্রতিটি শুভক্ষনে-
তবুও তোমায় পড়িবে মনে

হে প্রাণের প্রিয়,
যদি ঘিরে ধরে চির বিদায়ের
অশুভ হাতছানিতখনও জীবনের অন্তিম শয্যায়
কান্নার বিহবলে কাউকে নিয়ে যদি আবার অনন্তকাল
বাঁচিবার সাধ জাগে মনে-
সকলের অজান্তে একান্ত গোপনে-
তৃষ্ণার্ত নয়নে
তবুও তোমায় পড়িবে মনে







Saturday, September 6, 2014

KowTuhol-কৌতুহল


ভাদ্রমাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথীতে দ্বাদশীর চাঁদ
ওহে কেন মোর ভাঙ্গা ঘরের বেড়ার ফাঁকে আসো না
শীতের হিমেল হাওয়ায় মৌন জড়তায় ঝরা পল্লবের মত
ওহে হৃদয়ে কেন জড়াও তোমার শুষ্ক শীতল বেদনা

কৈশরে যে ছিল বুকের বা পাশ খানি, ফাল্গুনী-
আমার সাথে দুরন্ত ভাবে মিশতে নিষেধ করেছিল
কেন তোমার বয়োজ্ষ্ঠ্যে কাকা, আমি বুঝিনী
       
অষ্টাদশের কৌতুহলে হে হৃদয় রাগিনী হৈমন্তি শুক্লা
অজানা অভিমানে হারিয়েছ তুমি,কোথায়-কখন-কবে
আমায় করে শূণ্য, বড় একলা

বাইশের যৌবন নবান্নে যখন এ যৌবন গোলা রসে ভরপুর
তখন হঠাৎ কেন চৈত্রের দাবদাহ, কষ্টের দুপুর
হে যৌবনা কাকুলি, তুমি তো কৃষ্ণ মেঘের উষ্ণ বিজলি
তবে কেন শীতল নীরে নামিয়ে ছিলে আমায়-
আমি বুঝিনী, বুঝিনী তোমার রহস্যময় হেঁয়ালী

অজান্তে মন সন্ধিঃক্ষনে স্নিগ্ধ প্রাতে শিউলী তলে হে মালিনী অরুনা
কিছু ভুলে দুই জন দুই কূলে তবু পায়নি তোমার করুনা
বাস্তবতায় কেঁদে ফিরি করে অশ্রবিসর্জন
আজও আমি শুধু একা আর নারী-
তোমার রহস্য অন্বেষন

Wednesday, September 3, 2014

Tomari Jonno-তোমারি জন্য


এক পলকের চাওয়া
দুলিয়ে মাদল হাওয়া
এ জমানো ভালবাসা বুকের গভীরে
দু-চোখ ভাসে হৃদয় সায়রে
তবুও ভালবেসে হয়েছিলাম ধন্য
হে প্রেয়সী তোমারি জন্য

পুরানো স্মৃতি গুলো
কালের স্রোতে ভেসে গেল
একাকি এ বিহঙ্গ
হারিয়ে কোমল অঙ্গ
এক হতে গিয়ে হয়েছি অন্য
হে প্রেয়সী তোমারি জন্য

আজও আছে নীল জোছনার চাঁদ
তোমাকে পাওয়ার সাধ
তবুও জানি না কেন গিয়েছো দূরে, বহু দূরে
 আমাকে নিঃস্ব একাকি করে
করিয়া মানুষ বন্য
হে প্রেয়সী তোমারি জন্য

আজ তুমি অন্যের, বড় মধুর
যে ব্যাথা সয়না বুকে বড় বেদনা বিধুর
আজ তুমি অন্ধ
ভুলে পোড়া মাটির গন্ধ
তবুও বুকে বাঁধি আশা
ফিরে পেতে ভালবাসা
কিন্তু সেই নির্মম প্রতারণায় হয়েছি শূণ্য
হে প্রেয়সী শুধু তোমারি জন্য


Monday, September 1, 2014

Kosto-কষ্ট


তোমার সেই একটি চিঠি যেটা বুকের রক্তে লেখা
চোখের কাঁজলে ভিজিয়ে  আঁচলে বিরহ স্বপ্ন  আঁকা
তুমি জান না প্রেয়সী সেদিনের সেই একটি কথায়
জীবন আমার চলতে চলতে আজ অচেনা ঠিকানায়

তোমার পবিত্র ভালবাসা যেন আজ শ্রাবণ জলে পদ্ম ভাসা,
তরঙ্গের নির্মম আঘাতে কোন সে বেদনার বালিতে
বেঁধেছে কষ্টের ঘর
আর আজ আমি হলাম পর

কেন জানি না এ হৃদয় মাঝে কোন বেদনার সুর বাজে
ছেড়েছি তোমাকে পাওয়ার আশা জেনে এ ব্যার্থ ভালবাসা
মাদকের তিক্ত স্বাদে স্বাদে জীবনের পনেরটি বছর কেটেছে
আমারতোমায় ভোলার চেষ্টা করেছি বহুবার-
কিন্তু কিছুতেই পারিনি
তবুও তোমায় ভেবে সময় কাটে আমার

হঠাৎ পথের ধারে বাসন্তি গাছটা দেখে হৃদয় আমার করে হাহাকার,
বাসন্তি আমার জানি না কোথায় কোন সে পরের ঘরে
থাকে না বসিয়া কখনো সে আর কারো অপেক্ষার তরে

বাসন্তি আমার! তুমি কোথায় সেই বাসন্তি ফুলের
মালা কোথায়আমি জানি ঝরে গেছে মাটিতে
নেই এ জীবন বৃত্তিকায়

কেন তুমি হাসি মুখে এ পবিত্র প্রেমকে করেছ নষ্ট
তুমি জান বাসন্তি, জানো না-
তুমি বিহনে এ জীবনে কি হৃদয় ভাঙ্গা....
কষ্ট
কষ্ট

তোমার সেই একটি চিঠি যেটা বুকের রক্তে লেখা
চোখের কাঁজলে ভিজিয়ে  আঁচলে বিরহ স্বপ্ন  আঁকা
তুমি জান না প্রেয়সী সেদিনের সেই একটি কথায়
জীবন আমার চলতে চলতে আজ অচেনা ঠিকানায়

তোমার পবিত্র ভালবাসা যেন আজ শ্রাবণ জলে পদ্ম ভাসা,
তরঙ্গের নির্মম আঘাতে কোন সে বেদনার বালিতে
বেঁধেছে কষ্টের ঘর
আর আজ আমি হলাম পর

কেন জানি না এ হৃদয় মাঝে কোন বেদনার সুর বাজে
ছেড়েছি তোমাকে পাওয়ার আশা জেনে এ ব্যার্থ ভালবাসা
মাদকের তিক্ত স্বাদে স্বাদে জীবনের পনেরটি বছর কেটেছে
আমারতোমায় ভোলার চেষ্টা করেছি বহুবার-
কিন্তু কিছুতেই পারিনি
তবুও তোমায় ভেবে সময় কাটে আমার

হঠাৎ পথের ধারে বাসন্তি গাছটা দেখে হৃদয় আমার করে হাহাকার,
বাসন্তি আমার জানি না কোথায় কোন সে পরের ঘরে
থাকে না বসিয়া কখনো সে আর কারো অপেক্ষার তরে

বাসন্তি আমার! তুমি কোথায় সেই বাসন্তি ফুলের
মালা কোথায়আমি জানি ঝরে গেছে মাটিতে
নেই এ জীবন বৃত্তিকায়

কেন তুমি হাসি মুখে এ পবিত্র প্রেমকে করেছ নষ্ট
তুমি জান বাসন্তি, জানো না-
তুমি বিহনে এ জীবনে কি হৃদয় ভাঙ্গা....
কষ্ট

Saturday, August 30, 2014

Valobasi-ভালবাসি


এখন জীবনের প্রতি মুহূর্তে তোমায় নিয়ে ভাবি
ফেলে আসা সোনালি অতীত দুর্দিনের স্মৃতি
বকুলের শুকনো মালা আর মনে পড়ে-
বিষন্ন সন্ধ্যায় চোখের জলে আবছা কুয়াশাচ্ছন্ন বিমূর্ত ছবি

মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একা লাগে, তুমি নেই পাশে
তাই বুকটা জ্বলে
আর বেদনায় তিলে তিলে-
মৃত্যুর অমৃত স্বাদ পাওয়ার বাসনা মনে জাগে

একদা ভালবেসে কতটা প্রিয়- কতটা আপন করেছিলে,
করেছিলে হৃদয় যুবরাজ
আর আজ তুমি স্বপ্ন, সামান্য কিছু লোভের বসভূতি হয়ে
আপনি পরিলে অন্য বিয়ের সাজ

তোমার দেওয়া কোন উপহার আজ আর নেই
হারিয়েছি বিরহের স্রোতে-
তবে হ্যাঁ তোমার দেওয়া একটি আঘাত আজও
এই মনে বাজে

নিঝুম সন্ধ্যাবেলা, বহু পুরাতন কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে
পাশাপাশি দাড়িয়ে বিবেকের তাড়নায় কিছু প্রশ্ন, কিছু রাগ-
কিছু অভিমান তারপর কিছু নিরবতা
হঠা
মধ্য আষাঢ়ে ঝরা অঝর বৃষ্টির মত তুমি গর্জে উঠলে
যার প্রবল স্রোতে যেন ভেসে গেল হৃদয় বাঁধনের বাঁধ

তুমি বললে কি আছে তোমার?
আমাকে জীবন সঙ্গী করে কি খাওয়াবে, আর রাখবেই বা কোথায়?
আরও বললে, অর্থ দ্বারা মানসি মেলে- মিষ্টি প্রেমের শুভদৃষ্টি
মেলে আর অর্থ বিনে সে পুরুষ হয় হিজড়াতার পর পিছু টান
তুমি হলে অন্যের....

আজ দুই বছর পূর্তি হলো, একটি দুই তলা বাড়ি তিন বিঘা জমি
আর ব্যাংকে লাখ পাঁচেক টাকা সহ একটি গাড়ির মালিক আমি
যশ-মান-প্রতিপত্তি সব হয়েছে আমার
বিনিময়ে গায়ের রক্ত জল করেছি, আর অপমানের
অক্ষম আঘাত মিথ্যে করে দিয়েছি

দেখ শ্রাবন্তি দেখ, আজ কি চাই তোমার
কাগজের কিছু টাকা নাকি! হৃদয়ে প্রেমের বাঁধন
বল, বল দেখি কোনটা? এটা আমার আত্মবিলাপ

তবে শুনেছি যে সুখ মরীচিকার পেছনে তুমি ছুটেছিলে-
সেটা ভুল সেটা মিথ্যে সেটা বিশ্বাস ঘাতকতার ফন্দি

তোমায় আজ বড় ঘৃণা করি শ্রাবন্তি- বড় ঘৃণা করি
তবে তোমার সেই অবুঝ হৃদয়ের সবুজ প্রেমকে
আজও মনে-প্রণে ভীষণ ভালবাসি